মঙ্গল গ্রহের অবাক করা সাম্প্রতিক কিছু তথ্য



মঙ্গলে বরফ

মঙ্গল গ্রহে বিজ্ঞানীরা বিশাল আকারের বরফে ভর্তি এক গর্তের সন্ধান পেয়েছেন। সেখানে ৫,৯০৫ ফুট পুরু বরফ থাকে বছরজুড়ে। বিজ্ঞানীরা এ গর্তের নামকরণ করেছেন করোলেভ ক্র্যাটার হিসেবে। সোভিয়েত স্পেস টেকনোলজির জনক সার্গেই করোলভের নামানুসারে এ নামকরণ করা হয়। মঙ্গলগ্রহের উত্তরে নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ মাইল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এ জায়গাটি অলিম্পিয়া আনডে হিসেবেও পরিচিত। বরফ দিয়ে পুরন এ গর্তের গভীর অংশটিকে বিজ্ঞানীরা বলেন কোল্ড ট্র্যাপ


মঙ্গলে রহস্য-পাথর

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা মনে করে, আগামী ২৫ বছরের মধ্যে  তারা মঙ্গলে মানুষ পাঠাতে সক্ষম হবে। এ জন্য গবেষণা অব্যাহত রেখেছে নাসা। এ গবেষণারই অংশ হিসেবে মঙ্গলে রয়েছে নাসার মহাকাশযান কিউরিওসিটি। আর সেই কিউরিওসিটির ক্যামেরায় উঠে আসছে লালগ্রহের আশ্চর্যজনক সব তথ্য । তবে এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে মঙ্গলের এক উজ্জ্বল পাথর। যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন গোল্ডেন রক। একেবারে সামনে থেকে সেই পাথরের ছবি তুলে পাঠিয়েছে কিউরিওসিটি বিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম দেয়া হয়েছে লিটল কলনস এটির উজ্জ্বল চেহারা দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি কোনো উল্কার অংশ। তবে এখনো এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ জন্য পাথরটি রাসায়নিক ভাবে পরীক্ষা করার প্রয়োজন হবে। এতে ব্যবহার করা হবে কিউরিওসিটির কেমক্যাম (ChemCam) এর মাধ্যমেই দেখা হবে পাথরের আসল চরিত্র।

মঙ্গলাভিযানে InSight

৫ মে ২০১৮ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ভ্যান্ডারভার্গ বিমানঘাঁটি থেকে অ্যাটলাস-৫ রকেটে করে মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করা হয় রোবট InSight এর পর ৩০ কোটি মাইল বা ৪৫ কোটি ৮০ লাখ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ২৬ নভেম্বর ২০১৮ মঙ্গলের মাটিতে অবতরণে সক্ষম হয় রোবটযানটি ২০১২ সালে নাসার পাঠানো কিউরিওসিটি রোভারের বর্তমান অবস্থান থেকে ৬০০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এলিসিয়াম প্ল্যানেসিয়া নামক স্থানে সফলভাবে অবতরণ করে InSight এ স্থানে সূর্যের আলো বেশি পরে বলে InSight-কে এখানে অবতরণ করানো হয়। এর শক্তির মূল উৎস সূর্যের আলো। ৭ ফুট ব্যাসের দুটি পাখা দিয়ে সূর্য শক্তি সংগ্রহ করবে রোবটটি।


মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে ভূমিতে অবতরণ করতে InSightর সময় লাগে মোট সাত মিনিটঅবতরণের ছয় মিনিট পর থেকে যানটি মঙ্গলের ছবি পাঠাতে শুরু করে। মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে InSight যখন ঢুকছিল, তখন তার গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২,৩০০ মাইল বা ঘণ্টায় ১৯,৮০০ কিলোমিটার। তার পরের সাড়ে ছয় মিনিটে দ্রুত কমিয়ে আনা হয় যানটির গতিবেগ। InSight যখন লাল মাটি থেকে এক মাইল ওপরে ছিল, তখন নাসার ঐ ল্যান্ডারের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০০০ কিলোমিটার।

৩৮৫ কেজির InSightর উদ্দেশ্য মঙ্গলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো সম্পর্কে ধারণা দেয়া, যাতে অদূর ভবিষ্যতে মানুষের মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম হয়। ভূস্তরের বিভিন্ন ধাপ ভেদ করলে কি পরিমাণ তাপ কেন্দ্র থেকে উঠে আসে এবং মঙ্গলের কেন্দ্র কী রকম উত্তপ্ত সে খবরও জানাবে InSightরোবটযানটি কাজ করবে আগামী দুই বছর, ২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত।      
  

মঙ্গলে বাংলাদেশীদের নাম

মঙ্গলে InSightর অবতরণের মধ্য দিয়ে সেখানে পৌঁছেছে ২৪ লাখের বেশি মানুষের নাম, আছে বাংলাদেশীদের নামও। সংখ্যায় তা ডজনেরও বেশি। দুটি মাইক্রোচিপে করে এসব নাম InSightর সাথে পাঠানো হয়।


মঙ্গলে বাতাস!

২৬ নভেম্বর ২০১৮ লালগ্রহ মঙ্গলের মাটিতে অবতরণ করে নাসার রোবটযান InSightঅবতরণের ১০ দিনের মাথায় ১ ডিসেম্বর ২০১৮ রোবটযানটি মঙ্গলে বাতাসের শব্দ শুনতে পায়। তারপর তা রেকর্ড করে নাসার জেট প্রোপালসান ল্যাবরেটরিতে রিলে করে পাঠায় InSight ল্যান্ডার। বাতাসের শব্দ পরীক্ষা করে নাসা জানায় ১ ডিসেম্বর ২০১৮ মঙ্গলের বুকে প্রবাহিত হতে থাকা বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০-১৫ মাইল তার মানে, সেকেন্ডে ৫-৭ মিটার। তবে এ গতিবেগ পৃথিবীর চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে। স্বাভাবিক চাপ ও তাপমাত্রায় সমতল এলাকায় পৃথিবীতে বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে গড়ে সেকেন্ডে ২০ মিটার গতিবেগে।  

[তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট]

লেখাটি ভাল লাগলে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। নিজে জানুন ও অন্যকে জানতে সহযোগিতা করুন।