ইন্টারনেট জগতের নিরাপত্তা

security of internet,cybersecurity bangla tutorial,ইন্টারনেট নিরাপত্তা,ইন্টারনেট নিরাপত্তা কি,ফেসবুক ও ইন্টারনেট নিরাপত্তা

ইন্টারনেট জগতের নিরাপত্তা

বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট এর ব্যবহার প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এর ব্যপকতা প্রসার যত বেশি হচ্ছে প্রযুক্তির ততো উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু অবনতির কথা ভুললেও চলবে না। কারণ আমরা কেউ ইন্টারনেট ভালো কাজে ও কেউবা খারাপ কাজে ব্যবহার করি। আমরা জানি প্রায় প্রতিটি জিনিসের ভালো ও মন্দ দুটো দিকই থাকে। কিন্তু মন্দ এর ভয়ে ভালোকে আমরা ফেলে দিতে পারি না। তাই কিভাবে ইন্টারনেট এর খারাপ বা মন্দ দিক থেকে নিজেকে কীভাবে রক্ষা করবেন সে বিষয় নিয়ে আজকের আলোচনা। 

ইন্টারনেটের যে গুরুতর দুটি ক্ষতিকর দিক রয়েছে এর একটি হলো আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা এবং অপরটি হচ্ছে ইন্টারনেটে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এগুলো দ্বারা কোনো শিশু আক্রান্ত হলে সে মানসিক এবং শারীরিক উভয়দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। যেহেতু ইন্টারনেট তথ্যের মহাসমুদ্র তাই এর নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি চিন্তার অতীত। এটি এমনই এক আনরেস্ট্রিকটেড স্থান যেখান থেকে যে কেউ সহজেই যে কোনো তথ্য বের করতে পারে। আর বর্তমান যুগে ভিডিও, ইমেজসহ মাল্টিমিডিয়ার ব্যাপক বিস্তৃতির কারণে এসব নিষিদ্ধ তথ্য উপস্থাপনের ব্যাপারটি মারাত্মক ভিজ্যুয়াল এবং আকর্ষণীয় শক্তি সঞ্চয় করেছে যেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া দুষ্কর। তবু আপনার শিশুর জন্য যেমন ঝুঁকি রয়েছে তেমনি ইন্টারনেট থেকে সে যথেষ্ট উন্নত জ্ঞান আহরণে সচেষ্ট হতে পারে সেটাও সত্যি। সুতরাং এখানে একমাত্র উপায় শিশু-কিশোরদের এ তথ্য পাবার পথে সিকিউরিটি বাঁধা স্থাপন করা।  
   
ইন্টারনেট সিকিউরিটি সম্পর্কে আলোচনার প্রথমেই যে সমস্যাটি আসে সেটি হলো ভাইরাস সমস্যাআমরা জানি পিসির শত্রু হলো ভাইরাসযা পিসির কর্মদক্ষতা ও কখনো কখনো হার্ডওয়্যারের চরম ক্ষতি করে বস্তে পারে। আর ইন্টারনেটের মত একটি আনরেস্ট্রিকটেড এরিয়া থেকে পিসিতে ভাইরাস চলে আসা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। ভাইরাস যেহেতু কোনো রোগ নয়, মানুষের তৈরি একটি প্রোগ্রাম। সুতরাং যারা এগুলোকে সৃষ্টি করে তাদের উদ্দেশ্যই যত বেশি সম্ভব সিস্টেমে একে বিস্তৃত করা। এ ভাইরাস থকে পরিত্রাণ পাবার সহজ উপায় হলো অ্যান্টিভাইরাসতবে বর্তমানে অ্যান্টিভাইরাসের চেয়েও দ্রুত উন্নতি ঘটছে ভাইরাসের। তাই আমাদের সত্যিকার ভাবে যে অ্যান্টিভাইরাসটি কার্যকর তাকেই বেছে নিতে হবে। একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস এর অরিজিনাল কপি আপনার পিসিকে ভাইরাস মুক্ত রাখার জন্য যথেষ্ট। ইন্টারনেট সিকিউরিটির জন্য এ জাতীয় প্রতিটি অ্যান্টিভাইরাসই ইন্টারনেট সিকিউরিটি নামের আলাদা প্যাক রয়েছে। 

ইন্টারনেট চলাকালে নিরাপত্তা বিধানে যেকোনো একটি শক্তিশালী অ্যান্টিভাইরাস আপনার
কম্পিউটার সিস্টেমে ব্যবহার করা উচিত। অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহারে আরও বিষয় সর্বদা মনে রাখা উচিত। তা হলোঃ

প্রতি এক কিংবা অন্তত দুই সপ্তাহে একবার হলেও পিসিতে অ্যান্টিভাইরাসের রিয়েল টাইম স্ক্যানিং প্রসেসটি রান করা উচিত। এর ফলে পিসিতে যে ভাইরাসই থাকুক না কেন তা দূর হবেই। যেহেতু প্রতিনিয়ত ভাইরাসগুলো নতুন শক্তিতে দ্রুত আপডেট হয়ে আপনার পিসিকে আক্রমণ করছে তাই একটি অ্যান্টিভাইরাস যখন বের হয় এর একটি ভার্সনে সবগুলো প্রোটেকশন সিস্টেম ধারণ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। এজন্য প্রতি অ্যান্টিভাইরাসই অল্পসময়ের ভেতর তাদের আপগ্রেডেশন রিলিজ করতে করে। ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় অ্যান্টিভাইরাস চালু রাখলে এর কোনো আপডেট থাকলে আপনাকে এটি ডাউনলোড করে নেবার জন্য ম্যাসেজ দেবে। সর্বদা এ কাজটি গুরুত্ব সহকারে করবেন। আপনার ব্যবহৃত অ্যান্টিভাইরাসটি যত আপগ্রেড থাকবে আপনার পিসির ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ থাকার সম্ভাবনা তত বেশি থাকবে।

নিচে ভাইরাস থেকে পরিত্রাণ পাবার উপায়সমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করা হলোঃ

কম্পিউটার ভাইরাস হলো এক ধরনের ক্ষতিকর প্রোগ্রাম। যা আপনার কম্পিউটার এর ভাল প্রোগ্রাম গুলোকে নষ্ট করে। 

যেভাবে একটি কম্পিউটার কে ভাইরাস এর কবল থেকে রক্ষা করবেনঃ

১. জরুরি ফাইল ব্যাকআপ রাখা
২. ইমেইল ব্যবহারে সতর্ক থাকা
৩. ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন।
৪. অপারেটিং সিস্টেম আপডেট রাখুন
৫. ইন্টারনেট ব্রাউজিং এর সময় সতর্ক থাকুন
৬. সফটওয়্যার থেকে সাবধান থাকুন
৭. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ব্যবহার করুন
৮. অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার আপডেট রাখুন
৯. যেকোনো পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। 

ওপরের বিষয়গুলো সঠিক ভাবে মেনে কাজ করলে ভাইরাস এর কবল থেকে রক্ষা পাবা সম্ভব। 

এবার সিকিউরিটির দ্বিতীয় অপশনটি আলোচনা করা যাক। শিশু-কিশোরদের কোনো আপত্তিকর সাইট বা তথ্য থেকে দূরে রাখবার জন্য বেশকিছু ফিল্টারিং সফটওয়্যার রয়েছে। আপনার বাড়িতে কম্পিউটারে ইন্টারনেটের লাইন থাকলে এবং আপনার শিশু-কিশোর কেউ পরিবারের সদস্য থাকলে অবশ্যই এ সফটওয়্যার গুলো ব্যবহার করুন। আপনার শিশু যদি ইন্টারনেটে ব্রাউজও করে তবু তাকে এসব আপত্তিকর সাইট থেকে দূরে রাখবে এ সফটওয়্যার গুলো। এ রকম কয়েকটি সফটওয়্যার পাওয়া যাবে নিচের সাইটগুলোতেঃ
[তথ্যসূত্রঃ ইন্টারনেট]