About Me

header ads

হার্ডডিস্কের খুঁটিনাটি | কিভাবে হার্ডডিস্ককে সুস্থ রাখা যায়?

হার্ডডিস্কের খুঁটিনাটি Hard Disk Drive

নিঃসন্দেহে হার্ডডিস্ক কম্পিউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টস। হার্ডডিস্ক অর্থাৎ কম্পিউটারের মেমোরি ছাড়া কম্পিউটারের ডাটা গুলোকে সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। আর এজন্যই কিভাবে একটি হার্ডডিস্ককে ভালো রাখা যায় সে সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। আমরা আজ হার্ডডিস্কের বিশেষ কিছু বিষয় সম্পর্কে জানবো যা পরবর্তীতে আমাদের হার্ডডিস্ক-কে ভালো রাখতে সাহায্য করবে। তো চলুন শুরু করা যাক...

হার্ডডিস্ক কি ও কিভাবে কাজ করে? 

HDD (Hard Disk Drive) অর্থাৎ হার্ডডিস্ক হলো কম্পিউটারের একটি স্টোরেজ ডিভাইস। IBM (International Business Machines Corporation) 1956 সালে সর্বপ্রথম হার্ডডিস্ক প্রস্তুত করে। কম্পিউটারের সকল প্রকার তথ্য সংরক্ষণ করার কাজে এই হার্ডডিস্ক ব্যবহৃত হয়। একটি হার্ডডিস্কের মধ্যে কয়েকটি স্পিনিং প্ল্যাটার (Spinning Platter) থাকে এবং সেগুলো খুব দ্রুতগতিতে ঘুরতে পারে। প্ল্যাটার গুলো ম্যাগনেটিক ধাতু দ্বারা আচ্ছাদিত থাকে এবং প্ল্যাটার গুলোতে রীড-রাইট হেড থাকে যা দ্বারা সংরক্ষিত ডাটা বা তথ্যকে রীড ও রাইট (Read-Write) করা হয়। প্ল্যাটার গুলো যত দ্রুত ঘুরবে রীড-রাইট তত দ্রুত হবে। 

প্রত্যেক প্ল্যাটারের জন্য দুইটি রীড-রাইট হেড থাকে, একটি প্ল্যাটারের উপরে ও অপরটি নিচে রীড করে। কম্পিউটারের ফ্ল্যাশ মেমোরি (র‍্যাম) পাওয়ার অফ করলে অর্থাৎ বিদ্যুৎ প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে সংরক্ষিত সকল তথ্য ভুলে যায়। অপরদিকে ম্যাগনেটিজম অর্থাৎ চম্বুকত্ব ব্যবহার করে হার্ডড্রাইভ তৈরি করা হয় ফলে কম্পিউটারের পাওয়ার অফ করলেও হার্ডড্রাইভ সকল ডাটা সংরক্ষণ করে রাখতে সক্ষম। 
Hard Disk Drive

সাধারণত ডেক্সটপ ও ল্যাপটপের জন্য হার্ডড্রাইভের দুটি গঠন দেখা যায় তা হলো 3.5 ইঞ্চি ও 2.5 ইঞ্চি। 3.5 ইঞ্চি ডেস্কটপে ও 2.5 ইঞ্চি ল্যাপটপে ব্যবহৃত হয়। একটি 1 টেরাবাইট (TB) হার্ডড্রাইভের তথ্য ধারনক্ষমতা 1000 গিগাবাইট (GB)। 

আমরা যারা হার্ডডিস্ক ড্রাইভ ব্যবহার করি তাদের মধ্যে অনেকেই মাঝে মধ্যে কিছু বিশেষ সমস্যার সম্মুখিন হয়। এবার দেখা যাক হার্ডডিস্কের সেই কমন কিছু সমস্যা ও তার সমাধান।

ব্যাড সেক্টর 

হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে গেলে কম্পিউটার ধপ করে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে হার্ডড্রাইভে ব্যাড সেক্টরের দেখা দেয়। ব্যাড সেক্টর হলো এমন একটি সমস্যা যার জন্য ধীরে ধীরে হার্ডডিস্কের জায়গা (Space) কমতে থাকে। অনেকদিন যাবত ব্যাড সেক্টর হতে হতে হঠাৎ করে একসময় হার্ডডিস্ক সম্পূর্ণ ফেইল হয়ে যেতে পারে। 

মনে করুন আপনার হার্ডড্রাইভটি 500 গিগাবাইট এবং একটা সময় আপনি লক্ষ্য করলেন যে হার্ডড্রাইভটি 440 গিগাবাইট হয়ে গিয়েছে তাহলে বুজতে হবে বাকি স্পেস বা জায়গা গুলো ব্যাড সেক্টরের মধ্যে চলে গিয়েছে। এই সমস্যাটি সাধারণত হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলেই হয়ে থাকে। কারণ হার্ডডিস্ক সব সময় কোনো না কোনো ডাটা রীড-রাইট সম্পূর্ণ করতে থাকে এবং রীড-রাইট করার সময় হঠাৎ করে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে হার্ডডিস্ক সেই অপারেশনটি কমপ্লিট করতে পারে না। ফলে হার্ড ড্রাইভের ওই সেক্টরটি ব্যাড সেক্টরের আওতায়ভুক্ত হয়। 

রীড-রাইট হেড ক্রাশ 

হার্ডডিস্কে রীড-রাইট হেড ও প্ল্যাটারের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে হার্ড ড্রাইভ হেড নষ্ট হয়ে যায়। ফলে সম্পূর্ণ হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে যায়। এই সমস্যাটি খুব মারাত্মক একটি সমস্যা কারণ এই সমস্যা হলে প্ল্যাটার থেকে ডাটা রীড-রাইট করতে পারে না হেড। এজন্য হার্ডড্রাইভের ডাটা গুলো রিকোভারি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে। যদি রিকোভারি করাও যায় তাহলেও তা খুবই কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। 

ধুলাবালি 

সামান্য একটি ধুলিকণা হার্ডডিস্কের মধ্যে প্রবেশের ফলে হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এজন্য কম্পিউটারকে ধুলাবালি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। 

পার্টিশন পূর্ণ হয়ে যাওয়া 

হার্ডডিস্কের পার্টিশন গুলো সম্পূর্ণ ভরে যাওয়ার ফলে হার্ডডিস্কের সমস্যা হতে পারে। কম্পিউটার স্লো কাজ করতে থাকে। এজন্য সব সময় হার্ডডিস্কে কমপক্ষে 20% জায়গা ফাঁকা রাখুন প্রত্যেকটি পার্টিশনে। 

মাত্রাতিরিক্ত গরম 

হার্ডডিস্ককে অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে রক্ষা করা প্রয়োজন। কারণ মাত্রাতিরিক্ত গরমের ফলে হার্ডডিস্ক ক্রাশ করতে পারে। যদি আপনার হার্ডডিস্কের প্ল্যাটার গুলো গ্লাস (Glass) দ্বারা তৈরি হয়ে থাকে তাহলে অতিরিক্ত গরমের ফলে প্ল্যাটার গুলো ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য একটি হার্ডডিস্ক মনিটর সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন যাতে অতিরিক্ত গরম হয়ে গেলে নোটিফিকেশান পান। কম্পিউটারে ভালো কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করুন যাতে হার্ডডিস্ক সহ অন্যান্য অংশগুলো ঠাণ্ডা থাকে।



ফিজিক্যাল ড্যামেজ 

অনেক সময় হার্ডডিস্ক পরিস্কার করার সময় বা হাতে বহন করার সময় পরে গিয়ে সম্পূর্ণ হার্ডডিস্ক ড্যামেজ হয়ে যেতে পারে। এজন্য হার্ডডিস্ক সাবধানে পরিস্কার ও বহন করা উচিত যাতে কোনো ফিজিক্যাল ড্যামেজ না হয়। হার্ডডিস্কের ফিজিক্যাল ড্যামেজ রিপেয়ার খুবই কঠিন, বেশির ভাগ সময়ই রিপেয়ার করা সম্ভব হয় না। আবার অনেক সময় হার্ডডিস্কের ভেতর থেকে ভারী আওয়াজ শোনা যেতে পারে। হার্ডডিস্কের ভেতর থেকে এসব ভারী ধরণের আওয়াজ শোনা গেলে বুঝতে হবে হার্ডডিস্কের বারোটা বাজতে যাচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলো ব্যাকআপ করে নিন এবং সেই হার্ডডিস্ক ব্যবহার করা বাদ দিন। কারণ সেই হার্ডডিস্কটি যখন তখন ডেড হয়ে যেতে পারে। 

ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা 

ইলেক্ট্রিক্যাল ত্রুটি শুধু হার্ডডিস্ক নয় বরং পুরো কম্পিউটারের জন্যই ক্ষতিকর। ইলেক্ট্রিক্যাল সমস্যা যেমনঃ কম্পিউটার অন থাকা অবস্থায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া, শর্টসার্কিট, বিদ্যুতের ভোল্টেজ আপডাউন ইত্যাদি সমস্যা গুলোর জন্য হার্ডডিস্ক সহ সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এজন্য একটি ভালো মানের ইউপিএস (UPS-Uninterruptible Power Supply) ব্যবহার করুন। এতে করে যদি বৈদ্যুতিক কোনো সমস্যাও হয় তাহলে তা ইউপিএস এর ক্ষতি করতে পারবে, আপনার কম্পিউটারের নয়। 

হার্ডডিস্ক মনিটর সফটওয়্যার 

আপনার হার্ডডিস্ক-টির বর্তমান অবস্থা কি, হার্ডডিস্ক এর তাপমাত্রা কেমন রয়েছে, হার্ডডিস্কের ব্যাকআপ রাখা জরুরী কিনা ইত্যাদি বিষয় গুলো আপনাকে বিস্তারিত প্রদর্শন করবে এমন একটি সফটওয়্যার হলো HDDExpert। হার্ডডিস্ক সম্পর্কে সকল ধরণের ইনফর্মেশন জানতে আপানকে সাহায্য করবে এই সফটওয়্যারটি। সফটওয়্যারটি একটি ওপেন সোর্স সফটওয়্যার। এজন্য সফটওয়্যারটি আপনি ফ্রিতে ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। 

ডাটা ব্যাকআপ 

আমরা অনেকেই অনেক সময় হার্ডডিস্কের বিভিন্ন সমস্যার সন্মুখিন হয়ে থাকি। সমস্যাটি ছোট হোক কিংবা বড়, সমস্যার সমাধান করতেই হয়। কিন্তু যদি হার্ডডিস্কটিই ক্রাশ করে তাহলে খুবই বাজে অভিজ্ঞতার শিকার হতে হয়। আর তা হলো ডাটা লস। আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা বা তথ্য যদি সব হারিয়ে ফেলেন তাহলে এর থেকে খারাপ ব্যাপার আর কি হতে পারে। অনেক সময় যদি হার্ডডিস্কটি আপনি রিপেয়ারও করে ফেলেন তারপরও অনেক ডাটা ফিরে পেতে পারবেন না। আর যদি ফিরে পানও তবুও তা অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য এসব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকার একমাত্র সমাধান আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলোর একাধিক ব্যাকআপ রাখুন। 

আপনি একটি পোর্টেবল হার্ডড্রাইভ কিনে সেখানে ব্যাকআপ রাখতে পারেন অথবা ক্লাউড ডাটা ব্যাকআপ সার্ভিস গ্রহন করতে পারেন বা আপনার এক্সট্রা কোনো হার্ডড্রাইভ, পেনড্রাইভ ইত্যাদিতে সংরক্ষণ করতে পারেন আপনার ডাটা গুলো। ক্লাউড ডাটা ব্যাকআপ বেস্ট অপশন হতে পারে। যেমনঃ গুগল ড্রাইভ, মাইক্রোসফট ওয়ান ড্রাইভ ইত্যাদি। আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা গুলোর কিছু দিন পর পর ব্যাকআপ করে রাখুন এতে হার্ডডিস্ক নষ্ট হয়ে গেলেও বেশি সমস্যার সন্মুখিন হতে হবে না। 

আমরা এতক্ষণ জানলাম হার্ডডিস্ক কি? হার্ডডিস্ক কিভাবে কাজ করে? হার্ডডিস্কের কমন কিছু সমস্যা ও তার সমাধান কি? হার্ডডিস্কে মনিটর করার সফটওয়্যার ও হার্ড ডিস্কের ডাটা ব্যাকআপ কতটা জরুরী ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে। 

আশা করি আর্টিকেলটি আপনার একটু হলেও উপকারে আসবে। আর্টিকেলটি কেমন লাগলো তা নিচে কমেন্ট করে জানান। আপনার এ ধরণের বিভিন্ন সমস্যা আমাদের কমেন্ট করে জানাতে পারেন। আমরা আপনার সমস্যা সমাধানের যথাসম্ভব চেষ্টা করবো। আমাদের ফেসবুক পেজ-এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

এ ধরনের আরো বিষয়সহ বিজ্ঞান, টেকনোলজি, কি ও কিভাবে?, রিভিউ, লাইফস্টাইল, টিপস অ্যান্ড ট্রিকস্‌, মুভি আপডেট সহ আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে নিয়মিত www.ideaworldbd.com সাইটটি ভিজিট করুন। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পর্কিত আপনার যেকোনো প্রশ্ন ও মতামত জানাতে আমাদের ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন অথবা আমাদের Contact Us পেজে জানাতে পারেন। আমাদের Facebook Page-এ লাইক দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ